লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্র নিহত: বাস ভাংচুর, সড়ক অবরোধ, চালকসহ আটক-৩
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি-
জেলার কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট উপকূল কলেজের সামনে রোববার সকালে রামগতি থেকে লক্ষ্মীপুরগামী যাত্রীবাহী লোকাল বাসের (মা এক্সপ্রেস নং- ঢাকা মেট্রো-জ- ১৪-০১৫৭) চাকায় পিষ্ট হয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান বাপ্পী(১৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।  এনিয়ে কলেজের বিক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে কয়েকটি বাস ভাংচুর করে। পুলিশ ঘাতক বাসটির চালক মনোয়ারসহ ৩ জনকে আটক করেছে।
এদিকে আটক চালককে তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ছাত্রজনতা কমলনগর থানা ঘেরাও করে এবং ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহে আলম, এসআই নুরুজ্জামান, মোঃ নাছির উদ্দিন, এএসআই মুকবুল হোসেন, কনস্টেবল মোঃ নাছির, আবুল খায়ের এবং কলেজ ছাত্র শাকিল, শুভ্র চন্দ্র, মাহমুদুল হাসান, নাছিম, বাবুল, মহিউদ্দিন বিল্লাল মিজান ইমতিয়াজ, পারভেজ ও মাদ্রাসা ছাত্র মাহমুদুল হাসান আহত হন। আহতদেরকে স্থানীয় কিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১১ রাউন্ড টিয়ার সেল নিপে করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সদর ও রামগতি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়। এঘটনায় নিহত ছাত্রের চাচা মাহে আলম দিদার বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০ টায় নিহত কলেজ ছাত্র বাপ্পীসহ তার সহপাঠীরা ওই বাসে করে হাজিরহাট বাজার থেকে ১ কিলোমিটার অদূরে নিজ কলেজ হাজিরহাট উপকূল কলেজে যাচ্ছিল। কলেজের সামনে বাসটি থামলে ছাত্র-ছাত্রীরা বাস থেকে নামার সময় হেলপার তাড়াহুড়া করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের গেট থেকে ছাত্র বাপ্পী পা ফসকে পড়ে গেলে চাকার নিচে পিষ্ট হয়। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ছাত্রীরা মিছিল করে সড়ক অবরোধ করে রাখে।  খবর পেয়ে কমলনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজি আবু তাহের, লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার(সদর) মাকফারুল ইসলাম, ডিআইও-১ মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহত মাহমুদুর রহমান হাজিরহাটের জামশেদ আলম বাবুলের ছেলে।
লক্ষ্মীপুরের সংবাদ