ডঃ জোহা হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ, ৬৯’র ১৯ ফেব্র“য়ারি সেনবাগবাসীর কাজে অবিস্মরনীয় দিন - পুলিশের গুলিতে নিহত ৪ শহীদ পরিবার ও আহতরা ৪১ বছরেও পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
রুদ্র মাসুদ-
ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডঃ শামসুজ্জোহা হত্যাকান্ডের 11প্রতিবাদে ১৯ ফেব্র“য়ারি নোয়াখালীর সেনবাগে কালো পতাকা উত্তোলন ও থানা ঘেরাও করতে গেলে নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে ৪জন নিহত ও অগণিত ছাত্র-যুবক আহত হবার ঘটনার কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই সেনবাগে। দীর্ঘ ৪১ বছরেও ৪ শহীদ পরিবার ও আহতরা পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। অথচ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে গুলি বর্ষনকারী পুলিশের সেই থানা। তাই দাবি উঠেছে সেই শহীদদের স্মৃতিরক্ষার।
সেদিন আহতদের একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক মোঃ নাসির উদ্দিন। জানালেন, তখন চৌমুহনী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ১৯ ফেব্র“য়ারি সকালে কালো পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে সেনবাগে পুলিশের গুলিতে অনেকের সাথে তিনিও আহত হয়েছিলেন। সেদিন গুলিতে তার একটি হাত অকেজো হয়ে গেলেও এই পুঙ্গু অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হাবার পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। আজও সেই ঘটনার স্বাক্ষ্য বহন করছেন পুঙ্গু হাত নিয়ে। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে কোন সহায়তা করা হয়নি অদ্যবধি, একই অবস্থা শহীদ পরিবারগুলোরও। তাঁর দাবি, যেই গণআন্দোলনের পথ ধরে স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি মহাজোট এখন ক্ষমতায়, তাই সেদিনে ঘটনা আগামি প্রজন্মের কাছে জাগরুক রাখতে সেনবাগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কিংবা রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেয়ার।
সেনবাগ উপজেলা সদরের সেনবাগ বাজারে ১৯ ফেব্র“য়ারির ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গেলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি। যারা ঘটনা জানেন তারা দেখিয়ে দিলে ৬৯’র সেই উত্তাল দিনে সেনবাগ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক এবং তৎকালীন চৌমুহনী কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস এম এ আজিম চৌধুরীকে। শহীদদের কবরগুলোর কোন চিহ্নও নেই। এমনকি বাঙালীর মুক্তিসংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত ঐতিহাসিক এ ঘটনার কোন স্মৃতিচিহ্নও নেই সেনবাগে। দাঁড়িয়ে আছে শুধু গুলিবর্ষণকারী পুলিশদের সেই সেনবাগ থানা।
মুক্তিযোদ্ধা এম এ আজিম চৌধুরী জানান, ডঃ শামসুজ্জোর মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং ডাকসু নেতৃবৃন্দের আহবানে সেনবাগে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলনের কর্মসূচী হিসেবে ১৯ ফেব্র“য়ারি সেনবাগ বাজারের দোকানপাটে কালো পতাকা উত্তোলন করতে যায়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাথে জনতারও ছিলো স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ। তারা থানার সামনে পৌঁছলে সেনবাগ থানার তৎকালীন ওসি ফজলুল হক আকন্দের নির্দেশে এএসআই এমদাদুল হক ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল কালাম, ওফিজের রহামান, সামছুল হক ও  খুরশিদ আলম নামের ৪টি তাজা প্রাণ হারিয়ে যায় আমাদের মাঝ থেকে। আহত হয় অনেকেই। তন্মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো।
সেদিনে ঘটনায় পুলিশ থানায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ১৯৮৬ সালে তারা সেই মামলা থেকে বেকসুর খালাস লাভ করেন। প্যারেলে ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু নিহতদের পরিবারকে দেখে যান এর পর এত বছর কেউ কোনদিন খবর নিতে আসেনি শহীদ ৪ পরিবার ও আহতদের।
সেনবাগবাসীর প্রত্যাশা ১৯৬৯’র ১৯ ফেব্র“য়ারির শহীদদের স্মরণে বর্তমান সরকার সেনবাগে অন্তত একটি স্মৃতিস্তম্ভ করবে যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম অন্তত এই ইতিহাসটুকু জানতে পারে।
বিশেষ প্রতিবেদন