
রুদ্র মাসুদ-
অধিক ফলনের আশায় বিএডিসি থেকে বীজ কিনে নোয়াখলীর সয়াবিন চাষীদের এবার সর্বনাশ হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও নিম্নমানের বীজের কারণে চারা গজায়নি এমন কৃষকরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। আশায় বুক বেঁধে নতুন করে যারা সয়াবিন চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তাদেরকে আবার চড়া দামে স্থানীয় বীজ এবং নতুন বীজ কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কেউ কেউ তি মেনে অন্য ফসল বুনতে শুরু করলেও বিএডিসি কিংবা কৃষি বিভাগ থেকে কেউই কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়নি। উপরন্তু বিএডিসি কতৃপক্ষ দুষলেন কৃষকের অসচেনতাকে। ফলে চলতি রবি মওসুমে নোয়াখালী অঞ্চলে সয়াবিনের ল্যমাত্রা অর্জন নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র ও তিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, চলতি রবি মওসুমে নোয়াখালীতে ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তন্মধ্যে শুধুমাত্র সদর ও সুবর্নচর উপজেলায়ই রয়েছে ৯ হাজার ৮২০ হেক্টর জমি। মওসুমের শুরুতে আবাদের জন্য বিএডিসি নোয়াখালী অঞ্চলের ডিলারদের মাঝে ৯৮ মেট্রিক টন সয়াবিন বীজ বিতরণ করে। যেসব কৃষক ডিলারদের কাছ থেকে বীজ নিয়ে জমিতে লাগিয়েছেন তাদের সর্বনাশ হয়। সময় গড়িয়ে গেলেও শতকরা ৮০ ভাগ বীজ গজায়নি। বিপরীত দিকে যেসকল কৃষক নিজেদের কাছে সংরক্ষিত স্থানীয় বীজ লাগিয়েছেন তাদের ৮০/৮৫ ভাগ বীজই গজিয়েছে। প্রচন্ড শীত এবং কুয়াশার কারণে বিএডিসির বীজে চারা গজায়নি বলে দাবি করলেও কৃষকরা বলছেন; বীজ সংগ্রহের সময় দূর্ণীতি ও অনিয়মের কারণে নিম্নমানের বীজ সংগ্রহ করা হয়, ফলে মাশুল গুনতে হয় কৃষকদেরকে। একইভাবে কৃষকদের তোপের মুখে পড়তে হয় বীজ বিক্রেতাদেরও। এনিয়ে বিএডিসির বক্তব্য হচ্ছে; কৃষকরা বীজ না নেয়ার পর সময়মতো না লাগানোর কারণেই এমনটি ঘটেছে।
সুবর্নচরের আটকপালিয়া বাজারের বীজ ব্যবসায়ী আব্দুজ জাহেদ জানান, বিএডিসি’র ডিলার থেকে ১টন বীজ কিনে তিনি কৃষকদের কাছে খুছরা হিসাবে বিক্রি করেন। চারা না গজানোর কারণে ৪জনকে টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। বিএডিসি’র বীজ মার খাওয়ার পর লক্ষ্মীপুরের হায়দরগঞ্জ থেকে নতুন বীজ (চলতি বছর আগাম উৎপাদিত) এনে তিনি কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। যেখানে বিএডিসি’র বীজ বিক্রি করেছেন ৫০/৫৫ টাকায় সেখানে নতুন বীজ বিক্রি করতে হয়েছে ১৬০ টাকায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসি’র একজন বীজ ডিলার জানান, বিএডিসি থেকে তিন টন বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি। বীজ পাওয়ার ৮/১০ দিনের মধ্যেই কৃষকরা তাঁর কাছ থেকে বীজ কিনে নিয়ে যায়। কৃষকদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি নিজের দেড় একর জমিতেও বিএডিসি’র বীজ লাগিয়েছেন। একই সাথে তিনি নিজের কাছে রতি স্থানীয়জাতে বীজ লাগিয়েছিলেন সাড়ে তিন একর জমিতে। কৃষকদের মতো তাঁর দেড় একর জমিতেও চারা গজায়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তিনি নুতন বীজ লাগিয়েছেন জমিতে।
বিএডিসির বীজ কিনে সর্বশান্ত কৃষক কবির সরকার, হারাধন চন্দ্র দেবনাথ, সিরাজুল ইসলাম, আজিজ আহম্মেদের মতো শত শত কৃষক এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। কারণ তাদের জমি খালিই পড়ে থাকতে হবে গোটা মওসুমে। শীত এবং কুয়াশার কারণে চারা না গজানোর বিষয়টি তারা মানতে রাজী নয়। তাদের দাবি তাহলেতো স্থানীয় বীজও গজাতো না। আস্থা থাকায় বিএডিসি’র বীজ কিনেছি কিন্তু এত বড় একটা ক্ষতির পরও বিএডিসি কিংবা কৃষি বিভাগের কাউকেই তারা কাছে পাননি। তাঁদের মতে জেলায় দীর্ঘদিনের দাবি বীজ উদ্যান ও সংরণাগার থাকলে এ অঞ্চলের আবহাওয়ার উপযোগী বীজ সহজেই কৃষকরা পেতো।
এদিকে কৃষকদের এমন তি হলেও ভ্র“পে নেই বিএডিসির। বিএডিসি নোয়াখালীর উপ-পরিচালক (বিপনন) আনন্দ চন্দ্র দাস চারা না গজানোর কথা স্বীকার করলেও দুষলে কৃষকদের। তাঁর দাবি সারাদেশে বিভিন্ন বীজাগার থেকে সয়াবিন সংগ্রহ করে তিনি ডিলারদের মাঝে সরবরাহ করেছেন। দেড় মাস আগে এসকল জীব ডিলারদের দেয়া হয়। সর্বোচ্ছ ২১ দিনের মধ্যে এ বীজ লাগানোর কথা থাকলেও কৃষকরা দেরি করেছেন, পাশাপাশি প্রচন্ড শীত ও কুয়াশার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে তিনিও উল্লেখ করেন বীজ উদ্যানের প্রয়োজনীয়তার কথা। জানালেন সয়াবিন ফার্মের জন্য একটি প্রস্তাবনা দাখিল করা আছে।






