সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির দুই যুগ্ম মহাসচিবের অভিযোগ- সোনাইমুড়িতে মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে
11
বিশেষ প্রতিনিধি-

বিএনপির দুই যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান ও  বরকত উল্যা বুলু এমপি অভিযোগ করে বলেছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে। সোনাইমুড়ির সোনাপুর, আমিশাপাড়া ও দেউটিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে একের পর এক হামলা ঘটলেও পুলিশ নিরব থাকছে।  সোমবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসকাবে সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তারা একথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও নদোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন সানী লিখিত বক্তব্যে বলেন,  বর্তমান সরকার মতায় আসার পর আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোনাইমুড়ীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গত এক বছরে সরকারি দলের ক্যাডারদের হামলায় যুবদল কর্মী শরীফ ও বিএনপির সমর্থক শাহ আলম নিহত হয়েছেন। একই সময়ের মধ্যে সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া, দেউটি, সোনাপুর ও বজরা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর এবং তাঁদের বাড়ি ঘর, দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়, সোনাইমুড়ীর পুলিশ প্রশাসন মতাশীন দলের হয়ে কাজ করায় বিএনপির নিরপরাধ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতারের পরিবর্তে নিরীহ লোকজনকে ধরে এনে গ্রেফতার বাণিজ্য লিপ্ত রয়েছে। অভিলম্বে শরীফ ও শাহআলম হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানী বন্ধ না করলে প্রয়োজনে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচী দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সেক্রেটারি হারুনুর রশীদ আজাদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাম্যাা চন্দ্র দাস, সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক-২ অ্যাডভোকেট মোঃ সেলিম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি শাহাব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠের পর কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান অভিযোগ করেন, গত ২১ ফেব্র“য়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা বিএনপির কর্মীদের ওপর আমিশাপাড়া বাজারে বিনা উস্কানিতে হামলা চালায় ক্ষমতাশীন দলের ক্যাডারেরা। এতে প্রাণ হারান বিএনপির সমর্থক হোটেল ব্যবসায়ী শাহ আলম। শাহ আলমের হত্যার বিচার তাঁর পরিবারই চাওয়ার কথা সবার আগে। কিন্তু তাঁদেরকে চাপে রেখে ঘটনার সাতদিন পর স্থানীয় যুবলীগের চিহ্নিত ক্যাডার সোহাগকে বাদি করে নিরপরাধ বিএনপি কর্মীদের ওই হত্যার ঘটনায় আসামি করে থানায় একটি সাজানো মামলা করা হয়েছে।
অপর যুগ্ম মহাসচিব সাংসদ বরকত উল্লা বুলু সংবাদ অভিযোগ করেন- সোনাইমুড়ীর পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ ক্ষমতাশীন দলের হয়ে কাজ করছে। তাই সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া, সোনাপুর ও আশেপাশের এলাকার পুরুষেরা প্রতিনিয়ত পুলিশ ও মতাশীনদের হয়রানির মুখে পড়ছেন। নিরপরাধ লোকদের থানায় ধরে পুলিশ বানিজ্য করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চলতি সংবাদ