হাতিয়ায় চার কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রন নিয়ে আওয়ামীলীগের বিবদমান গ্রুপগুলো একাট্টা \ সিডিউল জমা দিতে গিয়ে ১০ ঠিকাদার লাঞ্চিত
হাতিয়া প্রতিনিধি-
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার এলজিইডি’র চার কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রন নিয়ে একাট্টা হয়েছে আওয়ামীলীগের বিবদমান গ্রুপগুলো। নিয়ে সোমবার উপজেলা পরিষদে সিডিউল জমা দিতে গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মারধর ও হামলায় লাঞ্চিত হয়েছেন অন্তত ১০জন ঠিকাদার। উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়  সূত্রে জানা যায়,  হাতিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫টি গ্রুপের ৩ কোটি ৯২ লাখ ৯ হাজার ৩৩ টাকার কাজ গত ১০ দিন ধরে হাতিয়া, নোয়াখালী ও ঢাকায় দরপত্র বিক্রয় হয়। সোমবার ছিলো টেন্ডার জমাদানের শেষ দিন। বিকাল পর্যন্ত উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে রতি বাক্সে ৩০টি সিডিউল জমা পড়ে।
প্রত্যদর্শী ও আহত ঠিকাদাররা জানান, সিডিউল জমা দেয়ার শেষ দিনে সোমবার সকাল থেকেই উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। এ সময় সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দেয়ার জন্য গেলে আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দিন প্রিন্স, একরাম উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন এর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ কর্মীদের সাথে সাধারণ ঠিকাদারদের বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে ঠিকাদার  ফখরুল ইসলাম (৬০), আব্বাস উদ্দিন (৩৫), মোঃ সাহেদ (৪০), রাশেদ (৩৫), ওয়ারেছ (৩২), আশিক (৩৭) ও মোঃ রফিক (৫০), আলা উদ্দিন (৫০), আবদুল ওহাব (৪০), ওসমান গনি (৩৮)  সহঅন্তত ১০জনকে লাঞ্চিত হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এসময় ঠিকাদার হাত থেকে টেন্ডার সিডিউল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা।
আহত ফখরুল ইসলাম জানান, সিডিউল জমা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এসময় তাঁর হাত কেটে যায়। সাধারণ ঠিকাদারদের আওয়ামীলীগ নেতারা সিডিউল জমা দিতে দেয়নি।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হায়দার দাবি করেন, তাঁর কার্যালয়ে কোন হামলা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন ছিলো এবং যারা সিডিউল জমা দিতে এসেছে তারা জমা দিয়েছে।
এনিয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই জামিল জানান, কথা কাটাকাটি ও হাল্কা ধাক্কাধাক্সি হয়েছে এর বেশি কিছু নয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় হাতিয়ার মানুষ টেন্ডার কি জিনিস চোখে দেখেনি। এখন সবকিছুই ওপেন। সিডিউল জমা দেয়া নিয়ে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি গিয়ে সাবইকে শান্ত করেন। সিডিউল ছিনিয়ে নেয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি।
এব্যাপারে যোগাযোগ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন উর রশীদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
চলতি সংবাদ