নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাইমুড়িতে পৃথক ডাকাতি- গণপিটুনীতে এক ডাকাত নিহত, আহত আট, পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট
চ.নো.রিপোর্ট-
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাইমুড়িতে মঙ্গলবার রাতে পৃথক ডাকাতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হাতে নুরুজ্জামান (২৮) নামের এক ডাকাত নিহত এবং ডাকাতের ধারালো হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় ঘটনায় আহত হয়েছে আটজন। ডাকাতির ঘটনা ও ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোনাইমুড়িতে ডাকাতির সময় লুট হয়েছে নগদ টাকাসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জে স¤প্রতি চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের প্রবাসী জহিরুল হকের ঘরে প্রবেশ করে সশস্ত্র ডাকাতদল। এসময় পরিবারে লোকজন ডাকাত দলের সদস্য নুরুজ্জামানকে জাপটে ধরে পেললে অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এসময় নুরুজ্জামান তার হাতে থাকা ধারালো কিরিচ দিয়ে এলেপাতাড়ি কোপাতে শুরু করলে গৃহকর্তার স্ত্রী কমলা বেগম (৪০), ছেলে স্বপন (২৩) ও ভাতিজী জোসনা আক্তার (১৪) গুরুতর আহত হয়। এসময় তাঁদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পালিয়ে যাবার সময় নুরুজ্জামানকে গণপিটুনী দেয়। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মুমুর্ষু অবস্থায় নুরুজ্জামান ও আহত অপর তিনজনকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে নুরুজ্জামনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। নুরুজ্জামান চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সামছুল হকের ছেলে। গণপিটুনীতে তাঁর মৃতুতে এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন এ ঘটনাকে চুরি উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার সময় বেলাল, নিজাম ও সাধু নামের অপর তিনজন পালিয়ে যায়। নুরুজ্জামানের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬/৭’শ লোকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং অপর তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় নুরুজ্জামান ও পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা জয়াগ ইউনিয়নের মাহুতলা ও বাটপাড়ায় প্রবাসী আনোয়ার ও বেচু মিয়ার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ডাকাতরা ঘরের লোকজনকে মারপিট ও জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদের আঘাতে রহিম (৩৫), লিপি (৩০), বিপুল (৩৫), বাশার (৪৫), খোরশেদ (৪২), গুরুতর আহত হয়। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তবে রহিমের অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে জানা যায়।
এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পাঁচজন নয় একজন আহত হয়েছে। কিছু নগদ টাকা নিয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে কেউ মামলা করতে আসেনি।
চলতি সংবাদ