নোয়াখালীতে তাঁত বস্ত্র মেলা বন্ধের দাবিতে কাপড় ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ
11
চ.নো.রিপোর্ট-
ঘন ঘন বস্ত্র মেলা আয়োজনের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কাপড় ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে শত শত কাপড় ব্যবসায়ী এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। ক্ষুব্ধ কাপড় ব্যবসায়ীরা অভিলম্বে মেলা আয়োজন বন্ধ না হলে ধর্মঘট ও হরতালের কর্মসূচী দেয়ার হুমকি দেয়। পরে কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল আগামি ১ এপ্রিল থেকে চৌমুহনী টেক্সটাইল ফ্যাসিলিটিজ সেন্টারে শুরু হওয়া মাসব্যাপী  তাঁত বস্ত্র মেলা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে।
সকাল ১১টায় চৌমুহনী পৌর মার্কেট চত্বরে কাপড় ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রবীন কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান। সমাবেশে কাপড় ব্যবসায়ীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আবুল হাসেম বিএ। কাপড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দিপক আইচ, সলিম চৌধুরী, আব্দুর রহিম, মনির হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে চৌমুহনীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদনি করে। এক পর্যায়ে মিছিল থেকে ক্ষুব্ধ কাপড় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা চৌমুহনী টেক্সটাইল ফ্যাসিলিটিজ সেন্টারে বস্ত্র মেলাস্থলে হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশ ও সিনিয়র ব্যবসায়ীরা তাদের নিবৃত্ত করে।
কাপড় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ চৌমুহনীতে ৫’শ পাইকারী ও খুছরা কাপড় দোকান রয়েছে। এসকল দোকানে কমপে দেড় হাজার কর্মচারী রয়েছে। ঘন ঘন এই মেলা আয়োজনের সবমিলিয়ে দুই হাজার পরিবার পথে বসার উপক্রম হবে। এক সাপ্তাহ পূর্বে চৌমুহনীতে মাসব্যাপী জামদানী মেলা শেষ না হতেই এখন আবার বস্ত্র মেলার আয়োজন এখানকার কাপড় ব্যবসায়ীদের পথে বসাবে।
এনিয়ে টেক্সটাইল ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতী সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ বিটিএমসির যুগ্মসচিব ও সদস্য (সমিতি ও বাজারজাতকরণ) তাহেরুল আলমের চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক এ মেলার অনুমতি দেয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারি কমিশনার আমিনুল ইসলাম গত ২২ মার্চ আগামি ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চলানোর অনুমতি প্রদান করেন।
এনিজে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানু রহমান মেলার অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং চৌমুহনীর কাপড় ব্যবসায়ীদের বিােভের কথা স্বীকার করে বলেন, মেলা হলে সাধারণ মানুষের লাভ। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের মুনাফা করতে পারেনা। একারণেই তারা মেলার বিরোধীতা করছে। তবে তাঁত বস্ত্রের বাইরে যাতে অন্য বস্ত্র কিংবা সামগ্রী বিক্রি না হয় সে ব্যাপারে পদপে নেয়া হবে।
বিশেষ প্রতিবেদন