রুদ্র মাসুদ, নোয়াখালী উপকূল থেকে ফিরে-
ক’দিন পরেই লোকজন এসে তালিকা করে, বলে তোমাদের এটা দিবো-ওটা দিবো, কিন্তু কিছুই দেয়না। নদীতে নামলে কোষ্টগার্ড জাল পুড়িয়ে দেয়, জমি-জিরাত না থাকায় কোন কাজও করতে পারিনা তাই ঘরের বসে থাকলে খাবার জোটে না। অচ আশপাশের জেলেরা মাছ না ধরলেও ঠিকই সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। হাতিয়ার মেঘনা উপক‚লে দাঁড়িয়ে ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বললেন জেলে উপেন্দ্র লাল জলদাস (৪৭)। শুধু উপন্দ্রে লাল নয় তাঁর মতো হাজার হাজার জেলে প্রতিবছরের ন্যায় এবাররো কর্মহীন অবস্থায় অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে।
ঝাটকা নিধন রোধ করে ইলিশ সংরণের জন্য বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও ১মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকায় নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করছে মৎস বিভাগ। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা কিংবা জেলেদের সচেতনতা না বাড়ালেও নদীতে জাল নামাতে দিচ্ছে না জেলেদের। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মিটার জাল আটক ও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে করে জেলেদের মাঝে রীতিমতো আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর এবং চাঁদপুরের জেলেদের সরকারি সহায়তা দেয়া হলেও একমাস পেরিয়ে যাবার পরও নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকার ১৩ হাজার জেলের কাছে পৌঁছেনি কোন সরকারি সাহায্য। ফলে এই দুইমাস পরিবার পরিজন নিয়ে চলার মতো আশ্বাসও মিলেনি কোন সরকারি সহায়তার। অথচ ঝাটকা নিধন রোধ করার ফলে প্রতি বছর বাড়ছে ইলিশ উৎপাদন।
জেলা মৎস অফিস সুত্রে জানা যায়, নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ১২ হাজার ৭৭২জন জেলে রয়েছে যারা নিয়মিতই নদীতে মাছ ধরার সাথে সম্পৃক্ত। তন্মধ্যে হাতিয়ায় ১০ হাজার ৫০০, সুবর্নচরে ১৮’শ এবং কোম্পানীগঞ্জে ৪৭২জন। চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেজান্ডার পর্যন্ত অভয়াশ্রম থাকলেও বর্তমানে নোয়াখালী উপক‚লের শাহবাজপুর চ্যানেল (চরইলিশা থেকে চরপিয়াল পযন্ত) এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস যে কোন ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এনিয়ে অভিযানও চলছে নদীতে। ১মার্চ থেকে অভিযানে ২৯ হাজার ৫০০ মিটার জাল আটক করা হয়।
সরেজমিনে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় অজানা আশংকা ভর করছে জেলেদের মনে। এমনই একটি জেলে পল্লী হচ্ছে সুবর্নচরের যোবায়ের বাজার সংলগ্ন ১নং সিডিএসপি কলোনী। এখানে বসবাসরত ৫০ পরিবারের ১২০/১২৫ জন সরাসরি মাছ ধরা সাথে জড়িত। নদীতে নামলে কোষ্টগার্ড ও মৎস বিভাগের লোকজন জাল আটক করে পুড়িয়ে দেয়। তাই মহাজনও নদীতে জাল নামায় না। ফলে তাদেরকে অভাব অনটনের মধ্যে তাঁদের থাকতে হয়। তাছাড়া চাষের জমি না থাকায় কৃষি কাজও করতে পারেন না তারা।
কলোনীর বাসিন্দা গোপাল কৃষ্ণ জলদাস জানান, তারা আড়ৎ থেকে দাদন নিয়ে থাকেন। নদীতে মাছ না থাকলে কিংবা না ধরতে পারলে দাদন দিবে কে। সরকার তাদের দিকে খেয়াল না করলে তারা যাবে কার কাছে।
উপক‚লীয় এলাকার জেলেদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুরের জেলেরা নদীতে মাছ না ধরলেও তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অথচ মাছ ধরা বন্ধ হওয়ার একমাস ফেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী উপক‚লের জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। কোন ধরণের পরিচয় পত্রও নেই তাদের। মৎস বিভাগ থেকেও তাদের খোঁজ নেয়া হয় না। তবে তাঁরা স্বীকার করেন, নিজেরা সংঘবদ্ধ না হওয়াও অধিকার নিয়ে তারা দাবি তুলতে পারেন না।
জেলেদের সরকারি সহায়তা না দেয়ার কথা স্বীকার করে জেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস কর্মকর্তা বিলকিছ তাহমিনা বলেন, যেহেতু নোয়াখালী উপকূলেও অভয়াশ্রম চিহ্নিত হয়েছে। তাই এখানে মাছ ধরার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে এ বছর জেলেদের সরকারি সহায়তা দেয়ার কোন সুযোগ নেই, আগামি বছর যাতে সহায়তা দেয়া যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্নচর) আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান জেলেদের সরকারি সহায়তা দিতে আশু পদপে নেবেন বলে নিশ্চিত করেন।

ক’দিন পরেই লোকজন এসে তালিকা করে, বলে তোমাদের এটা দিবো-ওটা দিবো, কিন্তু কিছুই দেয়না। নদীতে নামলে কোষ্টগার্ড জাল পুড়িয়ে দেয়, জমি-জিরাত না থাকায় কোন কাজও করতে পারিনা তাই ঘরের বসে থাকলে খাবার জোটে না। অচ আশপাশের জেলেরা মাছ না ধরলেও ঠিকই সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। হাতিয়ার মেঘনা উপক‚লে দাঁড়িয়ে ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বললেন জেলে উপেন্দ্র লাল জলদাস (৪৭)। শুধু উপন্দ্রে লাল নয় তাঁর মতো হাজার হাজার জেলে প্রতিবছরের ন্যায় এবাররো কর্মহীন অবস্থায় অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে।
ঝাটকা নিধন রোধ করে ইলিশ সংরণের জন্য বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও ১মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকায় নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করছে মৎস বিভাগ। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা কিংবা জেলেদের সচেতনতা না বাড়ালেও নদীতে জাল নামাতে দিচ্ছে না জেলেদের। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মিটার জাল আটক ও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে করে জেলেদের মাঝে রীতিমতো আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর এবং চাঁদপুরের জেলেদের সরকারি সহায়তা দেয়া হলেও একমাস পেরিয়ে যাবার পরও নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকার ১৩ হাজার জেলের কাছে পৌঁছেনি কোন সরকারি সাহায্য। ফলে এই দুইমাস পরিবার পরিজন নিয়ে চলার মতো আশ্বাসও মিলেনি কোন সরকারি সহায়তার। অথচ ঝাটকা নিধন রোধ করার ফলে প্রতি বছর বাড়ছে ইলিশ উৎপাদন।
জেলা মৎস অফিস সুত্রে জানা যায়, নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ১২ হাজার ৭৭২জন জেলে রয়েছে যারা নিয়মিতই নদীতে মাছ ধরার সাথে সম্পৃক্ত। তন্মধ্যে হাতিয়ায় ১০ হাজার ৫০০, সুবর্নচরে ১৮’শ এবং কোম্পানীগঞ্জে ৪৭২জন। চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেজান্ডার পর্যন্ত অভয়াশ্রম থাকলেও বর্তমানে নোয়াখালী উপক‚লের শাহবাজপুর চ্যানেল (চরইলিশা থেকে চরপিয়াল পযন্ত) এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস যে কোন ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এনিয়ে অভিযানও চলছে নদীতে। ১মার্চ থেকে অভিযানে ২৯ হাজার ৫০০ মিটার জাল আটক করা হয়।
সরেজমিনে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় অজানা আশংকা ভর করছে জেলেদের মনে। এমনই একটি জেলে পল্লী হচ্ছে সুবর্নচরের যোবায়ের বাজার সংলগ্ন ১নং সিডিএসপি কলোনী। এখানে বসবাসরত ৫০ পরিবারের ১২০/১২৫ জন সরাসরি মাছ ধরা সাথে জড়িত। নদীতে নামলে কোষ্টগার্ড ও মৎস বিভাগের লোকজন জাল আটক করে পুড়িয়ে দেয়। তাই মহাজনও নদীতে জাল নামায় না। ফলে তাদেরকে অভাব অনটনের মধ্যে তাঁদের থাকতে হয়। তাছাড়া চাষের জমি না থাকায় কৃষি কাজও করতে পারেন না তারা।
কলোনীর বাসিন্দা গোপাল কৃষ্ণ জলদাস জানান, তারা আড়ৎ থেকে দাদন নিয়ে থাকেন। নদীতে মাছ না থাকলে কিংবা না ধরতে পারলে দাদন দিবে কে। সরকার তাদের দিকে খেয়াল না করলে তারা যাবে কার কাছে।
উপক‚লীয় এলাকার জেলেদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুরের জেলেরা নদীতে মাছ না ধরলেও তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অথচ মাছ ধরা বন্ধ হওয়ার একমাস ফেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী উপক‚লের জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। কোন ধরণের পরিচয় পত্রও নেই তাদের। মৎস বিভাগ থেকেও তাদের খোঁজ নেয়া হয় না। তবে তাঁরা স্বীকার করেন, নিজেরা সংঘবদ্ধ না হওয়াও অধিকার নিয়ে তারা দাবি তুলতে পারেন না।
জেলেদের সরকারি সহায়তা না দেয়ার কথা স্বীকার করে জেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস কর্মকর্তা বিলকিছ তাহমিনা বলেন, যেহেতু নোয়াখালী উপকূলেও অভয়াশ্রম চিহ্নিত হয়েছে। তাই এখানে মাছ ধরার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে এ বছর জেলেদের সরকারি সহায়তা দেয়ার কোন সুযোগ নেই, আগামি বছর যাতে সহায়তা দেয়া যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্নচর) আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান জেলেদের সরকারি সহায়তা দিতে আশু পদপে নেবেন বলে নিশ্চিত করেন।






